দীপক ঘোষ, কলকাতা: গতকাল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ‘ল্যান্ড স্লাইড’ জয় পেয়েছে বিজেপি। জয়ের পর আনন্দে উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন বিজেপি কর্মীরা। আর এরই মাঝে এবিপি আনন্দের মুখোমুখি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন: ‘একটাই মন্ত্র, হয় ঘরে থাক, নাহলে শ্রীঘরে থাক’, কাদের এই মন্ত্র দিলেন পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত?
একজন সাংসদ হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন সিকিওরিটি কেন? তাঁর বাড়ির সামনে চারদিক ঘিরে রাখা হয়। আর এই নিয়ে অনেক অভিযোগও করেন কালীঘাট অঞ্চলের মানুষ। এই নিয়ে প্রশ্ন শুনেই শমীক ভট্টাচার্য বললেন, “ওসব থাকবে না।” তারপর তিনি এই পুলিশ আর নিরাপত্তার বহর নিয়ে ঊষ্মা প্রকাশ করলেন।
শমীক বললেন, “এমদের কর্মীরও যেমন কাউকে আক্রমণ করবে না। তেমন আমরাও মানুষকে জানাব যে কত শত পুলিশ দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে একটা পলিটিক্যাল ট্যুরিজম হত। এসব এখানে চলবে না।” তবে এই নিয়ম কি শুধুমাত্র বিরোধীদের জন্যই? এমন প্রশ্ন আসার আগে নিজের এর উত্তর দিয়ে বিতর্ক থামিয়ে দিলেন শমীক। তিনি বললেন, “এই ব্যবস্থা আমার দলের জন্যও আবার অন্য দলের জন্যও। এমদের দলেরও কিছু মানুষের কাছে নিরাপত্তা রয়েছে। নিরপত্তারক্ষী রয়েছে। সেগুলোও অনেক ক্ষেত্রে তুলে নেওয়া হবে। এই জিনিস চলবে না। আসলে এই জিনিস চলতে দেওয়া যাবে না।”
আরও পড়ুন: জোড়াফুল ‘উপড়ে ফেলে’ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর ৭৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ফুটল পদ্ম!
কেন চলতে দেওয়া যাবে না? শমীক বলছেন, “একটা পুলিশ দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রয়েছে। দু শো, আড়াই শো পুলিশ নিয়ে দিল্লি যাত্রা। এই যে তামাশা চলছিল, এটা মানুষ কীভাবে দেখেছেন? এর জন্যই তো মার্জিন বাড়ছে।” এরপরই শমীকের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর হারের প্রসঙ্গ। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ বললেন, “এই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ দেখেই তো আজ নিজের খাস মহলে ১৫ হাজার মার্জিন হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রীর।”
শমীক বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন যিনি প্রাক্তন, তাঁর সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক বিরোধ আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে তাঁকে আক্রমণ করার কোনও ইচ্ছা বা রুচি বিজেপির নেই। তিনি তাঁর মতো করে রাজনীতি করবেন। তাঁর রাজনীতি করতে অহেতুক বিজেপি কোনও অন্তরে হয়ে দাঁড়াবে না। কারণ, তৃণমূল তাদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। বিরোধিতা বিরোধিতার জায়গায় থাকবে। কিন্তু প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি তৃণমূল আমাদের সঙ্গে করেছে। এই রাজনীতি বিজেপি করবে না। ওর এই রাজনীতি করার চেষ্টা করলে বিজেপি সেটাকে প্রতিহত করবে।”


