ছাব্বিশের ভোটে মাত্র ৮০ আসন পেয়ে বিরোধী দলে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সবে বিধায়ক পদে শপথ নিয়েছেন জয়ীরা। এরপর শুরু হবে বিধানসভার কার্যক্রম। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই নতুন শাসকদলের বিরোধিতায় নারাজ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার এনিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন তিনি। কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) মতে, নতুন সরকারকে একটু সময় দেওয়া দরকার। তাদের সিদ্ধান্ত ভালো, খারাপ – দু’দিকই রয়েছে। তা বুঝেশুনে তবেই বিরোধিতা করা উচিত বলে মনে করেন তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক।
কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘এই ভোট নিয়ে, ইভিএম নিয়ে, ভোটের ফলাফলের দিন যা যা ঘটেছে গণনাকেন্দ্রগুলিতে, তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। কিন্তু সরকার নতুন তৈরি হয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন দায়িত্বে। একটু সময় দিতে হবে। প্রথমদিন থেকে সরকারের বিরোধিতা করলে সেটা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচকও হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে। সেসব দেখে যেখানে বিরোধিতা করার, করতে হবে। কিন্তু এখনই নয়, তাতে জনতার কাছে ভুল বার্তা যাবে।”
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার ছিল কলকাতার বিধায়কদের শপথগ্রহণ। শপথ নিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অনুষ্ঠান শেষে বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেসময় বেরচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। সৌজন্য বিনিময় হয় দু’জনের মধ্যে। সূত্রের খবর, তাঁকে দেখে শুভেন্দু বলেন, ”কী, জিতে গেলেন তো?” এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কুণাল ঘোষ, তিনিও জবাব দেন, ”হ্যাঁ জিতে গেলাম”।
এরপরই কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘এই ভোট নিয়ে, ইভিএম নিয়ে, ভোটের ফলাফলের দিন যা যা ঘটেছে গণনাকেন্দ্রগুলিতে, তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। কিন্তু সরকার নতুন তৈরি হয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন দায়িত্বে। একটু সময় দিতে হবে। প্রথমদিন থেকে সরকারের বিরোধিতা করলে সেটা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচকও হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে। সেসব দেখে যেখানে বিরোধিতা করার, করতে হবে। কিন্তু এখনই নয়, তাতে জনতার কাছে ভুল বার্তা যাবে।”

সামগ্রিকভাবে এদিন বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ অনুষ্ঠানে রীতিমতো সৌজন্যের নজির দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার তৃণমূল বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বিধানসভায় প্রবেশের সময় দেখা হয় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন দিব্যেন্দু। তাতে শোভনদেব বলেন, ‘‘এদের শিষ্টাচার আছে।” এছাড়া পরেও দিব্যেন্দুকে দেখা যায় বিধানসভার মুখ্য সচেতক ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও হেসে কথা বলতে দেখা যায়। এদিন বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষও সৌজন্য বিনিময় করেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে।

বুধ ও বৃহস্পতি – দু’দিনে রাজ্যের ২৯০ জন বিধায়কের শপথ হল। এখনও বাকি চারজন। চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খোন্দকারের পা ভেঙে গিয়েছে, তাই তিনি আসতে পারেননি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর – দুটি আসনে উপনির্বাচন হবে। প্রথম আসনে শুভেন্দু অধিকারী এবং দ্বিতীয়টিতে হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দিচ্ছেন, তাই উপনির্বাচন। এছাড়া ফলতায় ভোট বাকি। ২১ মে ভোট, ২৪ মে ফলপ্রকাশ। এরপর সেখানে নির্বাচিত বিধায়ক শপথ নেবেন।


